কালের কন্ঠ
ঢাকা, সোমবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৭, ১ রজব ১৪৩১, ১৪ জুন ২০১০

শাহীন আহমেদ

এবার পাহাড়ে থইথই জোছনা দেখা যাবে। ঘরের চালে, জানালায়, বারান্দায় থোকা থোকা দুধ-সাদা জোছনা এসে ভিড় করবে। জোছনাদলের নৃত্য দেখতে আমরা কোমর বেঁধে লেগে গেলাম। ২৭ মে ছিল বুদ্ধ পূর্ণিমা। পরের দুই দিনও ছুটি। রাঙামাটির বিলাইছড়ির উজানে ফারুয়া ছেড়ে পানছড়ি পর্যন্ত যাব এবার। দল গিয়ে ঠেকল ১৩ জনে। ২৬ মে রাতে ঢাকার শ্যামলী বাসে করে রওনা দিই। কাপ্তাই পেঁৗছাই ভোরে। বৃষ্টিস্নাত স্নিগ্ধ লেক দেখে মন ভরে যায়। বাস কাউন্টার-লাগোয়া টয়লেটে হাত-মুখ ধুয়ে ঢুকে পড়ি পাশের একটি রেস্টুরেন্টে। নাশতা খেয়ে নৌঘাটে যাই। নৌকা সমিতির বুলবুল ভাইয়ের সহযোগিতায় একটি ভালো ট্রলার পাওয়া সহজ হয়। ট্রলারে ওঠার আগে দরকারি কেনাকাটা করে নেন জিলানী ভাই।
কচুরিপানা ঠেলে ও পাহাড়ি বাঁশের সঙ্গে জোর ধাক্কাধাক্কি করে এগিয়ে চলে ট্রলার। নাসির মাঝি একাই এক শ। কিছুটা পথ গিয়ে বাঁক নিয়ে ঢুকি ছোট্ট একটি খালে। নাম রাইলার খাল। পাহাড়সারির মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে। বৃষ্টি-ধোয়া পাহাড়-প্রকৃতি দারুণ সতেজ। সবাই ভিড় করলাম ট্রলারের ছাদে। দলে এবার তবলা, করতালের সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছে গিটার। গানের দল গলা ছেড়ে দিল। ট্রলারের আওয়াজ ছাপিয়ে সে গান নদী ছুঁয়ে চলে গেল পাহাড়ে। বিলাইছড়ি পেঁৗছার আগেই নোমানী ভাইয়ের টেলিটক ছাড়া অন্যগুলো কার্যক্রম গুটিয়ে নিল। গাইড বঙ্কিম তঞ্চঙ্গ্যাকে ফোন করতেই তিনি বললেন, ‘আসুন। আমি সকাল থেকেই আপনাদের অপেক্ষায় বসে আছি।’
বিলাইছড়ি বাজারে যখন নৌকা ভেড়ে, তখন দুপুর। টাটকা তেলাপিয়া দিয়ে ভাত খাই। খেয়ে ট্রলার ছোটাই আরো উজানে। সবুজ পাহাড় থেকে এখন গরম আসছে। রেগে গেছে সূর্য। আমরা ট্রলারের ভেতরে ঢুকে পড়ি। রিপন, শাহরিয়ার, সাগর ভাতঘুম দেয়। বিকেলে আসে ঠাণ্ডা বাতাস। বৃষ্টিও আসবে বোধ করি। ফারুয়া এখনো অনেক দূর। রাত হওয়ার আগেই পেঁৗছানো দরকার। চেষ্টা চলল, কিন্তু সুবিধা হলো না। সন্ধ্যা নেমে আসে। অন্ধকার ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আমরা এগিয়ে যাই। আরো দূর গিয়ে মাঝিকে শুধাই, ও ভাই, রাত যে হয়ে এল! ফারুয়া কই? নাসির মাঝি যা উত্তর দেয়, তাতে ঠিক দিশা পাওয়া যায় না। এক জায়গায় এসে হঠাৎই থেমে যায় ট্রলার। খটকা লাগে। টর্চ হাতে অনেক লোক দেখতে পাই। বঙ্কিমদা বললেন, খালে বৃষ্টির পানিতে অনেক মাছ এসেছে। জাল দিয়ে মাছ ধরছে এরা। নারী-পুরুষ, ছেলে-মেয়ে সবাই মেতেছে মাছ ধরার উৎসবে। বেশ লাগল।
ইতিমধ্যে আকাশে চাঁদ এসে হাজির। কাঁসার থালার মতো রুপালি চাঁদ। ধাবমান মেঘদলের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আবার আমাদের চলা শুরু হয়। ট্রলার থামাই ফারুয়া বাজার এসে। এখানে খাবার বলতে পাওয়া গেল ঠাণ্ডা ভাত, আলুভর্তা আর ডাল। চাইলে ডিম ভাজা হবে। দোকানি জানালেন, মাছ আছে। তবে রান্না হতে অনেক সময় লাগবে। আমরা বললাম, লাগুক। মাছই খাব। ডোবা তেলে ভেজে একটু পেঁয়াজ দিয়ে রান্না করুন, ভাত বসান। দোকানি লেগে যান রান্নার কাজে। আমরা জমে যাই গালগল্পেগু। সঙ্গে চিনি কম দুধচা আর খাজা (গজা) খেতে থাকি। একপাক চক্কর দিতে বের হই। ‘এল’ সাইজের বাজার। বাজারের পুবে, ডানে ও পেছনে পাহাড়। একটি হিন্দু মন্দিরও আছে। ঘণ্টা পার হলে পেটপুরে খাই মাছ-ভাত। ট্রলারে ফেরার সময় দেখি আকাশ ভেঙে জোছনা নেমে আসছে। দোকানপাট, গাছপালা, খালের জল, কাপড়চোপড়, জুতো_সব জোছনা-ধোয়া সাদা। লড়াইয়ে জিতে চাঁদের কি হাসি! বাধ মানছে না। আমরাও রূপে বিভোর। সাধ্য কি তার বর্ণনা দেওয়া! গোল হয়ে বসি ট্রলারের ছাদে। জোছনায় ভিজে গান ধরি।

বৃষ্টি , ছবি - মুন

কখন যে ভোর হয় ঠাহর পাই না। বাজারে যাই, ঘোরাঘুরি করি, নাশতা খাই। এতক্ষণ যে মেঘদল উড়ে উড়ে বেড়াচ্ছিল, তারা এবার দলবেঁধে নেমে আসে ফারুয়া বাজারে। টানা চার ঘণ্টা চলে বৃষ্টির নাচন। আমাদের অবাক করে দিয়ে পাহাড়ি ঢল নামে খালে। অল্প সময়েই খাল ভরে যায়। স্রোত বাড়ে। ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে আমরা খালের ওপারে যাই। এখানে বঙ্কিমদার বাড়ি ও দোকান। জায়গাটি খুব সুন্দর। পাহাড়ের পায়ে বাড়িঘর, অনেক খোলা জায়গা। ওপরে বৌদ্ধ মন্দির। বেলা বাড়তে থাকে। চলার সময় হয়ে আসে। পাহাড়ি ঢল নেমে গেলে খাল শুকিয়ে আসবে বলে আমাদের ট্রলার রেখে যাই ফারুয়া বাজারে। ছোট দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিই। খালের পানি তরঙ্গ তুলে নিচে ধেয়ে চলেছে। ফারুয়া বাজারের পর আর কোনো বাঙালি বসতি নেই। আমরা পানি উজিয়ে আস্তে আস্তে চলি।
এভাবে একসময় গোবাছড়ি, চেংড়াছড়ি হয়ে চলে যাই পানছড়ি। তখন বিকেল নেমেছে। ঝরনায় গোসল করি দলবেঁধে। তারপর একটা দোকানে গাছপাকা পাহাড়ি মিষ্টি কলা, বেলা বিস্কুট ও চা খাই। অন্ধকার নামার আগেই ফিরে আসি চেংড়াছড়ি পাড়ায়। কারবারির সঙ্গে আলাপ-পরিচয় হয়। এর মধ্যে বড় দুটি মোরগ নিয়ে আসে একজন। ২০০ টাকা কেজি দরে তার একটি কিনে নিই। কারবারি আমাদের জন্য একটি ঘর বরাদ্দ করেন। ঘরের নিচ দিয়ে বয়ে গেছে রাইফং খাল। ঘরের লোকজন গেছে জুমে। আমাদের আনন্দ আর ধরে না। আমাদের চিফ শেফ হোমায়েদ ইসহাক মুন মোরগ নিয়ে রান্না করতে যায়। ওয়াকিল ভাই গিটার বাজিয়ে গান ধরেন। গলা মেলান সামির ভাই_’সখি কুঞ্জ সাজাওগো আজ আমার প্রাণনাথ আসিতে পারে।’ অন্যদের সঙ্গে পাড়ার মেয়েরাও গান শুনতে এলে আমাদের উৎসাহ বাড়ে, গলা চাঙ্গে ওঠে। ‘ওয়ান মোর’ আশা করেছিলাম। আশা পূরণ হলো না, তবে রান্না শেষ হলো। আর দেরি করি না, পাত পেতে বসে পড়ি। রাতে টানা ঘুম দিয়ে খুব সকালে উঠি সবাই। যে ঝরনাকে কেন্দ্র করে এ পাড়া গড়ে উঠেছে, তা দেখতে বেরোই। ঝিরি ধরে এগোতে থাকি। এঁকেবেঁকে এগিয়ে গেছে ঝিরি। মাঝেমধ্যে বড় বড় পাথর। মাঝে বসতিও আছে। চাকমা আছে, তবে বেশির ভাগই তঞ্চঙ্গ্যা। একসময় পেয়ে যাই চেংরাছড়ি ঝরনা। শীর্ণ জলধারা। ঝরনা ছাড়িয়ে এগিয়ে যাই পাথুরে দেয়াল ঘেঁষে। এবার অনেক পানি পাই। গোসল করি অনেকক্ষণ ধরে। শীতল জল বড় ভালো লাগে। পাড়ায় ফিরে নুডলস রান্না করে শাহরিয়ার। খুব করে খাই। মাঝিরা তাড়া দেয়_খালে পানি থাকবে না। জলদি ব্যাগ গোছাই। নৌকায় উঠি। খানিক যেতেই বৃষ্টি নামে। জলেরা নাচে। আমরা আবার মুগ্ধ হয়ে দেখতে থাকি জলের নাচন। আমাদের মাঝি জাল দিয়ে ধরে ফেলে বড় সাইজের এক কালিবাউস। আমরা ভাগ চাই, কিন্তু দেয় না। তার ধরা মৌসুমের প্রথম মাছ বলে সে একাই খাবে। বৃষ্টি থামে ফারুয়া বাজারে এসে। আমরা ট্রলারে গিয়ে উঠি। ট্রলার চলে, ফিরতে থাকি। ছুটি ফুরাল, নটে গাছটি মুড়ল।
কিভাবে যাবেন
আরামবাগ, ফকিরাপুল থেকে শ্যামলী, এস আলম, সৌদিয়াসহ আরো কিছু বাস কাপ্তাই যায়। ভাড়া ৩৩০ টাকা। ফারুয়া পর্যন্ত ট্রলার ভাড়া তিন দিন তিন হাজার টাকা। ফারুয়া থেকে ইঞ্জিন নৌকা প্রতিটি এক হাজার ৫০০ টাকা। কাপ্তাই থেকে খাবারের জিনিসপত্র প্রয়োজনমতো সঙ্গে নিতে পারেন। ফারুয়া বাজারেও অনেক কিছু পাবেন। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে যাওয়া ভালো।

যুঘান্তর
উনিশ কুড়ি
মে ১৮, ২০১০, মঙ্গলবার, জ্যৈষ্ঠ ৪, ১৪১৭
মনিরুল ইসলাম

বাংলাদেশের জলসীমায় নাকি তিমি, ডলফিনের আড্ডা, এই খবর শোনার পর থেকে আমরা BTEF(www.btef.info) এর বন্ধুরা খোঁজখবর নিতে শুরু করলাম কিভাবে যাওয়া যায় ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে’। সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বা অতল গহ্বরের অবস্থান সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এর গভীরতা কোথাও ১০ মিটার আবার কোথাও প্রায় ১০০০ মিটার।

প্রায় দুু’মাস চেষ্টার পর গভীর সমুদ্রযাত্রা, জলদস্যু- সব ভয়ভীতি কাটিয়ে ভাটিয়ারী থেকে কেনা জাহাজের পুরনো বয়া, লাইফ জ্যাকেট, ফ্লেয়ার গান ইত্যাদি নিয়ে কুয়াকাটা থেকে ভাড়া করা কাঠের তৈরি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে ফেব্রুয়ারির এক শীতের সকালে আমরা রওনা হলাম তিমির খোঁজে। জিপিএস ধরে কয়েক ঘণ্টা চলতেই সুন্দরবন আমাদের দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে গেল। সেই সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্কও।


Dolphin's kicking around at Bay of Bengle

অথৈ নীলে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় যতই আরও সামনে গভীর সমুদ্রে যাচ্ছি ততই সবার উত্তেজনা বাড়তে শুরু করল। সারাদিন চলার পর প্রায় বিকাল নাগাদ পৌঁছে গেলাম সোয়াচ প্রান্তে। এবার নড়েচড়ে বসল সবাই, কারণ পৌঁছে গেছি তিমি-ডলফিনের আবাসস্থলের আশপাশে। চলতে থাকলাম সোয়াচের ওপর দিয়ে আরও দক্ষিণে, কিছুক্ষণ চলতেই দেখতে পেলাম একজোড়া ডলফিন পড়ন্ত বিকালের রোদে নীল সমুদ্রে পাশাপাশি সাঁতার কাটছে।

Dolphins pack

সূর্য ডোবার আগে এ দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করে পরদিন আরও বেশি ডলফিন-তিমি দেখার আশায় রেখে অন্ধকারে বিদায় নিলো।

দ্বিতীয় দিন আবার শুরু সোয়াচের উপরে গাঢ় সবুজ জলে ট্রলার নিয়ে ঘোরাঘুরি। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা আরও ডলফিনের দেখা পেতে শুরু করলাম। একসময় প্রায় ২০-২৫টি ডলফিনের একটা ঝাঁকের মধ্যে নিজেদের আবিষ্কার করলাম। আমাদের বোটের চারপাশে ডলফিনের ছোটাছুটি, লাফালাফি। কিন্তু তার পরও যেন তৃপ্তি আসছিল না, কারণ কখনও তিমির দেখা মেলেনি। সারাদিন ডলফিনের দেখা আর তিমির খোঁজ করতে করতে দ্বিতীয় দিন প্রায় শেষ হওয়ার পথে তখনই আমাদের নৌকার মাঝির চোখে ধরা পড়ল দূর-দিগন্তে তিমির পানি ছুড়ে মারার দৃশ্য। দ্রুতগতিতে আমরা কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম তার আশপাশে। ট্রলারের ইঞ্জিন বন্ধ করে গতিশব্দ সব কমিয়ে রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা। তারপর সেই বহু প্রতীক্ষিত মুহূর্ত।


Whale at bay of bengle

ট্রলারের অদূরে ভেসে উঠল একটি তিমি। চরম উত্তেজনায় সবাই উপভোগ করতে লাগলাম তিমির উপরের দিকে পানি ছুড়ে মারা ও সাঁতার কাটার দৃশ্য। এভাবে কিছুক্ষণ সাঁতার কেটে লেজ উঁচিয়ে লম্বা একটা ড্রাইভ দিয়ে বিদায় নিল আমাদের প্রথম দেখা তিমি ও সমুদ্রে আমাদের দ্বিতীয় দিন। আড্ডা, গান-বাজনা দিয়ে দ্বিতীয় রাত উদযাপন করলাম আমরা। মিশন অলরেডি সাকসেসফুল, যদিও আরও একটি দিন বাকি।
তৃতীয় দিনের শুরুতে ডলফিনের কদর কমতে শুরু করল আমাদের কাছে। কারণ এরই মাঝে অনেক ডলফিন দেখা হয়ে গেছে। সবার সজাগ দৃষ্টি চারদিকে। যদি তিমির দেখা মেলে আরেকবার। কয়েক ঘণ্টা চলতেই চোখে পড়ল আবার পানি ছুড়ে মারার দৃশ্য। আরও চরম উত্তেজনায় ছুটে চললাম। কাছাকাছি যেতেই চোখে পড়ল বেশ বড় আকারের একটি তিমি। সারাদিন চলতে চলতে আরও ৭-৮ বার দেখা মিলল তিমির সঙ্গে বেশ কাছ থেকেই।
এভাবে তিমি, ডলফিন দেখার আনন্দ, উত্তেজনা আর বিস্ময়কর সব মুহূর্তের স্মৃতি নিয়ে তিনটি দিন বঙ্গোপসাগর কাটিয়ে আমরা ফিরতি পথে রওনা হলাম কুয়াকাটার উদ্দেশে।

সারি নদীর রূপকথা

Posted by মো: মহি উদ্দিন On May - 17 - 2010ADD COMMENTS

রাসেদ শাহ

কালের কন্ঠ
ঢাকা, সোমবার, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৭, ২ জমাদিউস সানি ১৪৩১, ১৭ মে ২০১০

আমরা যখন সারি-গোয়াইন ঘাটে, তখন দুপুর পেরিয়ে সূর্য নরম হয়েছে। ছইয়ে বসে তো সবাই হতবাক! এমনও হয় নাকি? এমন তুঁত রঙের জলের ধারা শুধু তুঁত গোলালেই হতে পারে! দুই পাশে অনুচ্চ পাহাড়ের দেয়ালে শক্ত এঁটেল মাটি, তার গেরুয়া রঙের ছায়া পড়েছে জলের শরীরে। অথচ নদীর তলদেশ পর্যন্ত স্ফটিক স্বচ্ছ, সূর্যের তির্যক রশ্মি তখনো মাছের শরীরে ঝিলিক খেলছে।

কুঁচবরন নদী তোমার তুঁতবরন চোখ
স্বচ্ছ শীতল অমন জলে চিত্ত শুচি হোক।
যদি বল অমন তুঁতবরন জলের শরীর কোথায় গেলে পাব রে? তবে সে ঘুঙুর বাজিয়ে অমনি এসে দাঁড়াবে তুঁতবরন শাড়ি পরে তোমার সম্মুখে। সারি নদী তার নাম। যদিও বর্ষায় তার রূপ খোলে উচ্ছ্বাসে, তবুও আমরা এক শীতেই গিয়েছিলাম দেখতে। তখন সে সি্নগ্ধ। বাংলাদেশের সব নদীই সুন্দর_কী নামে, কী রূপে, কী তার এঁকেবেঁকে চলায় আর আপন বৈচিত্র্যে একেক নদীতে একেক সুর। সারি নদী অনন্য তার জলের রঙে। এমন নদী আর কোথাও আছে কি না জানা নেই।
খুব দূরে তো নয়, রাজধানী থেকে যাওয়া যায় যখন তখন। লাক্সারি বাস, ট্রেন কিংবা বিমানে সুরমা পাড়ের সিলেট। তারপর জাফলংগামী বাসে চেপে ঘণ্টা খানেক গেলেই সারি-গোয়াইন নদীর ঘাট। সেখান থেকে পছন্দসই নাও ভাড়া করে তার ছইয়ের ওপর উঠে বসলেই হলো। রাতে রওনা দিলে সকাল ১০টা-১১টা নাগাদ নদীর বুকে। তবে আমরা খানিকটা পাগলামি করেছিলাম, পাগলামি করাই আমাদের দলের স্বভাব। আমরা মানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপানশন ফোরাম (বিটিইএফ)-এর সদস্যরা। হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলাম সারি নদী হয়ে তার পাড় ধরে সীমান্ত পথে জাফলং পেঁৗছাব। তখন বুঝিনি অল্প সময়ে সে বড় কঠিন কাজ। পর্যটন মৌসুম, তায় আমাদের বহরে জনা পনের, টিকিট পাওয়া গেল না। উঠলাম সব থেকে ধীরগতির এক লোকাল ট্রেনে রাত ৯টায়। যখন সকাল তখন কেবল শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া বন পেরোচ্ছে। সে অবশ্য ভালোই, রাতের আঁধারে চলে গেলে তো কত সব বিচিত্র নামের স্টেশন দেখা হতো না থামতে থামতে ধুঁকতে ধুঁকতে।
আমরা যখন সারি-গোয়াইন ঘাটে, তখন দুপুর পেরিয়ে সূর্য নরম হয়েছে। ছইয়ে বসে তো সবাই হতবাক! এমনও হয় না কি? এমন তুঁত রঙের জলের ধারা শুধু তুঁত গোলালেই হতে পারে! দুই পাশে অনুচ্চ পাহাড়ের দেয়ালে শক্ত এঁটেল মাটি, তার গেরুয়া রঙের ছায়া পড়েছে জলের শরীরে। অথচ নদীর তলদেশ পর্যন্ত স্ফটিক স্বচ্ছ, সূর্যের তির্যক রশ্মি তখনো মাছের শরীরে ঝিলিক খেলছে। ঘণ্টা দেড়েক এমন বিস্ময় পাড়ি দিয়ে একটা বাঁক ঘুরতেই মাঝি ইঞ্জিন বন্ধ করল, সামনে এক বটের তলে ঘাট, সিঁড়ি উঠে গেছে দীর্ঘ। এখান থেকেই লালাখাল টিলা, লালাখাল টি-এস্টেট, ছোট্ট লালাখাল বাজার। ভ্রমণে আমাদের থাকার কোনো ঠিক থাকে না, সঙ্গে তাঁবু থাকে। এবারও তাই। ঘুরতে ঘুরতে চা-বাগানের চৌহদ্দির মধ্যে এসে পড়ি, একটা জায়গা পছন্দ হয় তাঁবু করার মতো_সারি নদীর পাড় ঘেঁষে, বিশাল বটবৃক্ষের তলে। চা-বাগানের শ্রমিকদের সপ্তাহান্তে যখন মজুরি দেওয়া হয়, তখন সেখানে বাজার বসে, জমে ওঠে রঙিন পসরা, গল্প-শব্দ আর ফুর্তি। আজ সব সুনসান, ফাঁকা। বাগানের ম্যানেজারের অনুমতি মেলে সেখানে তাঁবু ফেলার। তারপর সন্ধ্যা নেমে এলে, সব পাখি ঘরে ফিরে গেলে, আঁধার ঘন হয়। আর হিমঝরা রাতে আমাদের উনুনে ধোঁয়া ওঠা ডিমের ঝোল রান্না হতে থাকে। আর আমরা কেবল নদীর চরের বালুতে নিঃসঙ্কোচে গেঁথে যেতে যেতে গল্পে, আড্ডায় এক আকাশ তারার নিচে লীন হতে থাকি। কত যে সহস্র বছরের জমানো গল্প, কত যে বিচিত্র তার বিষয়! যখন শিশির পড়ছে খুব, তখন খড়কুটো জ্বালিয়ে দিই বটের তলে; আর সে আগুনের তামাটে রঙে বিশাল বটগাছের ফাঁকে ফাঁকে জন্ম নেয় অশরীরী ছায়া। আমরা শিশু হয়ে উঠি, ছোটবেলার মতো খেলায় মাতি, গাছে উঠি, লাফাই, গান গাই।
ভোরের আলোয় দেখা পাই সারি নদী আর লালাখালের শিশুদের। ওরা ভোর হতেই পাহাড়ের গায়ে লুকিয়ে থাকা বসতি থেকে সেজেগুজে এসে নিঃশব্দে গালে হাত দিয়ে দেখছে আমাদের রঙিন তাঁবুগুলো। আর সারি নদী থেকে কুয়াশারা সবে আড়মোড়া ভাঙতে শুরু করেছে। শিশুদের দুই-একজন পণ করেছে সারা দিন আমাদের সঙ্গেই থাকবে_ইশ্কুলে-টিশ্কুলে কোত্থাও যাবে না আজ। কিন্তু আজ যে আমাদের যেতে হবে বহুদূর, নতুন পথ চিনে চিনে। চিন-পরিচয় করতে হবে সারির সঙ্গে, তার জলে ভাসতে হবে, ভিজতে হবে_তবেই না সে ধরা দেবে! সকালের আলোয় দেখি, রাতে যে আমরা এত হল্লা করলাম, অথচ নদীর উল্টো দিকেই সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী সদাসতর্ক হয়ে রয়েছে। তাঁবু গোটানোর আগেই লালাখাল চা-বাগান ঘুরে এলাম খানিকটা। বিশাল এলাকাজুড়ে বাগান। উঁচু-নিচু টিলাজুড়ে বাগানের মাঝ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে একা এক ঝিরি। তবে তার গভীরতাও বেশ। ওরই নাম লালাখাল। খাল বরাবর তাকালেই সুউচ্চ লালাখাল টিলা। ওপাশেই ভারতের মেঘালয় রাজ্য। স্থানীয়রা জানাল, এখানে নাকি দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। হতেও পারে, ওপারেই তো শিলংয়ের মওসিনরাম, যেখানে বিশ্বের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়, আগে হতো শিলংয়ের চেরাপুঞ্জিতে। চা-বাগান ছাড়াও আশপাশের টিলাগুলোয় এখনো সবুজ বনানী বেশ টিকে আছে।
তাঁবু গুটিয়েই আমরা সওয়ারী হই ছোট নৌকায়। তুঁত রং সারির বুকে ভাসতে ভাসতে মাঝির কাছে গল্প শুনি, সারি নদীর এই যে প্রবাহ, এ নাকি আগে ছিল না। এই এলাকা ছিল জৈন্তা-রানীর রাজ্য। যা এখন জৈন্তাপুর। তখন নদী খাত ছিল আরো খানিকটা উজানে। তখন প্রায় বছর জৈন্তারাজ্যে বন্যা হতো। তাই রানী একটা বিরাট পাথর খণ্ডকে কাটিয়ে সারি নদীর গতি দিল ঘুরিয়ে। আগে সারি নদী জৈন্তাপুর হয়ে গোয়াইন নদীতে পড়ত, এখন লালাখাল হয়ে ঘুরে যায়। মাঝি সেই পাথরের পাহাড়টা চিনিয়ে দিল আমাদের। জায়গাটা কিছুটা সরু, আর সেখান দিয়ে কী বেগে স্বচ্ছ স্রোত ছুটে যাচ্ছে ওপারের লালাখালের বাঁকে।

সারি নদী

সারি নদী

আমরা ততক্ষণে সারির কোমর-জলে নেমে পড়েছি। হিমালয় থেকে আসা হিমশীতল সে জলের নিচে একটুও কাদা কিংবা মাটি দেখা গেল না, স্বচ্ছ কাচের মতো জলের তলে শুধুই রংবেরঙের অযুত-নিযুত নুড়ি আর নুড়ি! এর পর সারি নদী ধরে আর যাওয়া যাবে না। নদী যে এসেছে ভিন্ন দেশ থেকে কাঁটাতার ডিঙ্গিয়ে! আমাদের তাই বাঁক ঘুরতে হয়। কিন্তু ঘুরেই আরেক বিস্ময়! একটা সম্পূর্ণ মৃত নদী খাত দেখেছি কি কখনো? বুকে শুধুই ধু ধু বালু। যে নদীর কথা মাঝির মুখে শুনেছিলাম, এখন তাই সামনে। এ পাশে বাংলাদেশ, ও পাশে ভারত, মাঝখানে অতীত সারি নদীর মৃতদেহ। যতদূর চোখ যায় এক সমুদ্র বালির ভার বুকে নিয়ে অজগরের মতো শুয়ে আছে সারি।

Archaeological Sites

Posted by moon On May - 12 - 20101 COMMENT

Bangladesh is a country considerably rich in archaeological wealth, especially of the medieval period both during the Muslim and pre-Muslim rules, though most of it is still unexplored and unknown. In archaeological fieldwork and research this area was very much neglected for a long time for various reasons, not the least of which are its difficult geography and climate and remoteness from the main centres of the subcontinent. With the independence of Bangladesh in 1971 the Government has undertaken a number of field projects including a comprehensive survey and exploration of the hitherto unexplored areas and a fairly ambitious scheme of excavations on selected sites. Though work at present is carried out on a limited scale, the discoveries already made have been significant. while new information and fresh evidence are coming out gradually. These fresh explorations are likely to add substantially to our knowledge of the history and chronology of ancient Bangladesh and various aspects of her life and culture. The earlier history of Bangladesh reveals that Buddhism received royal patronage from some important ruling dynasties like the great Pala rulers. the Chandras and the Deva Kings. Under their royal patronage numerous well-organized, self-contained monasteries sprang up all over the country. The major archaeological sites are described below by devision wise.

A. Dhaka
1. Lalbagh Fort
2. Sonargaon
3.Ahsan Monjil
4.Boro Katra
5.Choto Katra
6.Tara Mosque
7.Hoseni dalan
B. Chittagonj
1. Mainamati
C. Rajshahi
1. Mahasthangarh
2.Kusumba Mosjid

D. Khulna

1. Shait-Gumbad Mosque, Bagherhat

E. Shylhet
F. Barisal
G. Rangpur
1. Kantanagar Temple, Dinajpur

Kusumba Mosjid:

কুসুম্বা মসজিদের নামকরনে এলাকার নামই দায়ী বলে জানা যায়। আত্রাই নদীর পারের জেলা নাটরের মান্দা উপজেলার কুসুম্বা নামক গ্রামেই এই মসজিদ অবস্হিত। মূল মসজিদের ঢোকার আগে একটা বড় ফটক ছিল যাতে প্রহরীদের দাড়াবার স্থান ছিল বলে মনে করা হয়। স্থাপত্যকলা অনন্য সাধারন এই নির্দশনটি আফগানিদের শাসন আমলের শেষ দিকের শুরি শাসক গিয়াশুদ্দিন বাহাদুর শাহ কতৃক নির্মত হয়েছিল। ভিত্তিপ্রস্তরের কাল অনুসারে হিজরি ৯৬৬ সাল (১৫৫- ৫৯ খৃ:) ছিল এর নিমার্নকাল। তৎকালিন ভারতবর্ষে অন্যান্য শুরি স্হাপত্যকলার থেকে প্রায় পুরোটাই স্বকীয় বৈশিষ্টধারী এই মসজিদের নির্মান শৈলীতে বাঙলার প্রভাব প্রকট ভাবে উপলক্তিত হয়। মসজিদের ভিতরটাকে দারুন ভাবে ভাললাগার মত বিষয়টি হলো ঈষৎ ধনুর মত বাক নেয়া আর্চ গুলোর উপর ইটের তৈরি গম্বুজ যা অক্টাগোনাল আকৃতির থামের উপর যুক্ত।

Kusumba Mosjid

Kusumba Mosjid, Photo: Muntasir Mamum Imran

আরেকটা বিষয় সবাইকে নাড়া দিতে বাধ্য তা হলো এর মিহরাব। কম বেশি সবাই আমাদের পাচ টাকার নোটে এর সৌদর্য দেখে থাকবেন। টাকার নোটে ছোট আকারের স্হাপত্যকলার অসাধারনে প্রতিমার ব্যপ্তিটা বোঝা না গেলও সরাসরি দেখতে এক কথায় অদ্ভুত। প্রথমটায় একটু খটকা লেগেছিল ছোট মসজিদের থাম গুলো কেনই বা এতটা মোটা। পরে বোঝা গেল পাশাপাশি অবস্হিত গম্বুজ গুলোর ভর সামলানর জন্যই পাথরের খুটি গুলোকে হতে হয়েছে বেশ পোক্ত। মিহরাবটি আদ্যপান- পাথরে খোদাই করা কারুকাজ। দুই পাশের দুই থামে মেঝে থেকে উপরের দিকে গিয়ে মিশে গেছে এক সাথে। মিলিত স্হানে একটি কলস দেখতে পাওয়া যায়। প্রশ্ন এসেছিল এই কলসই বা আসল কেন? প্রথমটায় প্রায় ভিমরি খেতে হয়েছিল থামের দেয়ালের কারুকাজ দখে। প্রায় সাপের মত আকাবাকা করে নেমে আসা লতা গাছের অবয়ব শেষ হয়েছে একেবারে মেঝের কাছাকাছি এসে। তবে এটা সত্য এই কারুকাজকে যদি কেউ মসজিদের ভিতরে না দেখে বাইরে দেখে তো মন্দির না মসজিদ এ প্রশ্নে আটকে যেতে বাধ্য।
source: gybZvwmi gvgyb Bgivb

source : http://www.betelco.com/bd/bdsarch/bdsarch.html

জমিদার বাড়ির আঙিনায়

Posted by মো: মহি উদ্দিন On May - 11 - 20102 COMMENTS


সমকাল
১১ মে, ২০১০
শৈলী
হোমায়েদ ইসহাক মুন

ভূপতিনাথ চক্রবর্তী চৌধুরী ভালো আঁকিয়ে ছিলেন। জমিদার বাড়ির ফটক এবং বাড়ির অনেক অংশের কারুকাজ তিনি নিজেই করেছেন। ‘৭১-এ যখন পাকবাহিনী এলো তার বড় ভাই বললেন, আমরা এ বাড়িঘর ছেড়ে কোথাও যাব না। তিনি থেকে গেলেন। তারপর একদিন এলো পাকবাহিনী। তাকে ধরে নিয়ে গেল। আর ফিরে এলেন না। কথাগুলো জানা গেল ভূপতিনাথের ছেলে মানবের মুখ থেকে। পহেলা বৈশাখ উদযাপন করার জন্য যাওয়া এই জামিদার বাড়িতে। সেখানে র‌্যালি এবং লাঠিখেলার আয়োজন করা হয়। সেই সব দিন রাত্রির অভিজ্ঞতা নিয়ে এই প্রতিবেদন।
গাঙ্গাটিয়া গ্রামে একটি রাজ সিংহাসন আছে। এতে কপালে দাগ নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের বসালে তা দূর হয়। এ সিংহাসনের গল্প শুনছিলাম গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ির উত্তরসূরি শ্রী তপন কুমার চক্রবর্তী চৌধুরীর কাছ থেকে। জমিদার বাড়িতে এমন একটি চেয়ার আছে, যা ব্রিটিশ সময়ের এবং তারা এই চেয়ারটিকে বেশ সমীহ করে। দূর-দূরান্ত থেকে এখনও নানাজন তাদের সন্তানদের নিয়ে আসেন এ পুণ্য চেয়ারে বসাতে।
বেড়ানোর দল বিটিইএফ সেই জমিদার বাড়ির প্রাঙ্গণেই এবারের বাংলা নববর্ষের প্রথম প্রহর শুরু করার পরিকল্পনা করে। আমরা পহেলা বৈশাখের আগের রাতেই পেঁৗছে যাই গাঙ্গাটিয়া গ্রামে। যার অবস্থান কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায়। এ গ্রামে প্রবেশ করলে যে কারোরই মন ভালো হয়ে যাবে। গ্রামের বিস্তর প্রান্তর, গাছ-গাছালি, পুকুর, পাখির কলতান আর রাজবাড়ির সৌন্দর্য সবাইকে আকর্ষণ করবে। জমিদার পরিবারের বউ হয়ে আসে গঙ্গাবতী। আর সেই গঙ্গাবতীর নামেই এ গ্রামের নাম হয় গাঙ্গাটিয়া। তবে এখন একে পুরনো গঙ্গাটিয়া নামে ডাকে। কেননা বয়ে চলা গোকুল নদীতে চর উঠে একটি গ্রাম হয়ে যায়। তার নাম চরগাঙ্গাটিয়া বা নতুন গাঙ্গাটিয়া।

জমিদার বাড়ীর একাংশ

জমিদার বাড়ীর একাংশ. ছবি : হোমায়েদ ইসহাক মুন

গ্রামের প্রবেশমুখে ঢুকতে প্রকাণ্ড এক অশ্বত্থ বৃক্ষের দেখা মিলবে, যেখান থেকে সরু পথের ভাগ হয়েছে। এখান থেকেই জমিদার বাড়ির মূল ফটক দেখা যায়। এর সামনে একটি প্রাচীন মন্দির আর তার সামনেই বিশাল এক পুকুর।
আমরা যখন পেঁৗছি তখন রাতের আকাশের তারাগুলো জ্বলজ্বল করছিল। দূর থেকে কাছারি ঘরটাকেই রঙমহল মনে হচ্ছিল। আলোকরাজি যেন সেই রঙমহলকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে। বাড়ির আঙিনায় বিশাল বড় এক আমগাছ। সে গাছে আমগুলো যেন কেউ সাজিয়ে রেখেছে। জমিদার বাড়ির পাশের বড় মাঠজুড়ে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। গান গাইছে, বাদ্য বাজছে পহেলা বৈশাখকে বরণ করার জন্য। আয়োজনে ছিল জারিগান, মহিলা গীত, বলাই সঙ্গীত, কিচ্ছা আরও অনেক কিছু। আমরা সবাই ফানুস ওড়াতে মাঠে দৌড় দিলাম। এ গ্রামের মানুষ কখনও ফানুস দেখেনি। তাই সবারই একটু বাড়তি আকর্ষণ ফানুসের ওপর। মাইকে বারকয়েক ফানুস ওড়ানোর কথা ঘোষণা দিতেই দেখলাম দূর-দূরান্ত থেকে সবাই ছুটে আসছে। মাঠের মাঝখানে আগুনের কুণ্ডলী বানানো হলো। একটা একটা করে ফানুসে আগুন ধরে আর সবাই আনন্দে চিৎকার দেয়। জমিদার বাবুরাও আমাদের সঙ্গে শামিল হয়।
রাতে ঘুমের ব্যবস্থা করা হলো কাছারি ঘরে। সে রাতে বেশ বৃষ্টি হলো। সামির, মনির, মাহি ভাইরা অনেক রাত পর্যন্ত কদমতলায় বসে ভিজেছে। এমন ঘুম এলো যে, কিছু বুঝতেই পারলাম না। সকালে উঠে দেখি সি্নগ্ধ আকাশ। মনটা ভরে গেল। কয়েকজন মিলে হাঁটতে বের হলাম। সঙ্গে এ বাড়ির মানবদা। বিশাল জায়গাজুড়ে জমিদার বাড়ি। প্রবেশদ্বার থেকে বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার পাশে লাগানো নানা জাতের ফল গাছের সারি। ফটকটাও বেশ কারুকাজ করা। ১৯০৪ সালে মানবদাদের পূর্বপুরুষ দিলুনাথের নামে জমিদারি কেনা হয় ষোলআনা, দুইআনা, দুইকড়া, দুইক্রান্তি। তারা জমিদারি হারিয়েছে বহু বছর হয়ে গেছে। তারপরও লোকে তাদের অনেক সমীহ করে, জমিদার বলে।
জমিদার বাবুদের ফিশারিজের দিকে ঢুঁ মারতে গেলাম। বেশ সুন্দর আর নিরিবিলি জায়গাটা। যে কারও অনেকক্ষণ বসে থাকতে ইচ্ছা করবে। মাছ ধরতে চিলের ওড়াউড়ি দেখলাম, পহেলা বৈশাখে ঘুরতে আসা ছেলেমেয়েদের দেখলাম, মুক্ত আকাশ দেখলাম, আরও কত কী! কেউ কেউ তো শুয়েই পড়ল। ফিরে এলাম আবার জমিদার বাড়ির আঙিনায়। বিকেলের আয়োজনে ছিল লাঠিখেলা। বিকেলে লোকে লোকারণ্য সেই মাঠ। আমরা সবার সঙ্গে বসলাম লাঠিখেলা দেখতে। একের পর এক কসরত দেখিয়ে যাচ্ছে লাঠিয়ালরা। সবাই হাততালি দিয়ে তাদের আরও উৎসাহিত করছে। আমরা ছবি তুললাম, বাজারে মিঠাই-মণ্ডা খেলাম, মানুষের মেলা দেখলাম। সেদিন সায়াহ্নে আবারও ফানুস ওড়ানো হলো। আচ্ছা, তপনদা’র গানই তো শোনা হলো না। তিনি বেশ ভালো গান করেন। কিন্তু এখন তো গান গাওয়ার সময় নয়। অন্য কোনোদিন এলে শোনাব_ শুধান তপন কুমার চক্রবর্তী চৌধুরী। রাত বাড়ছে, আমাদের তো যাওয়ার সময় হয়ে গেল। তপনদা’র গান শুনতে এখানে তো আরেকবার আসতেই হবে। আকাশের দিকে তাকাই, ফানুসগুলো আমাদের আশীর্বাদ করছে, তোদের মঙ্গল হোক।

VIDEO

TAG CLOUD

About Me

BTEF started its activity formally in 2001 with a goal to develop an environment friendly traveling attitude. Along with traveling around Bangladesh. its members are taking photographs, making films, collecting travel information & relative data, writing travelogues etc. They are publishing their pictures and writings in Newspapers & screening the films in public gatherings. By these activities BTEF is trying to inform people about new travel destination and make traveling popular among general people as well as to make them aware about environment & conservation of natural & archaeological sites.

Twitter

    Photos

    solar eclipseShangu River - 3Shangu River - 2Cave at Andar Manik Researved Forest